Header Ads

Header ADS

শিশু শ্রম রোধ করি, সুন্দর দেশ গড়ি


⚒️ শিশু শ্রম বর্তমানে বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ সমস্যা। এই শিশু শ্রমের ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। শিশুরা কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। 

➡️শিশু শ্রম বলতে কি বোঝায়? 

সাধারণত শিশু শ্রম বলতে ১৫ বছরের নিচের বয়সের বাচ্চাদের দ্বারা তাদের ইচ্ছা বা জোরপূর্বক যে কোন ধরনের কাজ করাকে বুঝায়।যার মাধ্যমে তারা অর্থ উপার্জন করে।

➡️বাংলাদেশে শিশু শ্রম 

বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের একটি স্বল্পোন্নত দেশ। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। অনেকে আছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর যারা দিন আনে দিন খায়।তারা অভাবের তাড়নায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারে না। তাই খুব অল্প বয়সে বিভিন্ন ধরনের কাজে দিয়ে দেন। এর ফলে কিছুটা হলেও অর্থ উপার্জিত হয়। আর এর ফলেই দিন দিন বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। 

➡️সমাজে শিশু শ্রম

আমাদের সমাজে শিশু শ্রমিকদের খুব অবহেলার চোখে দেখা হয়। শিশুরা বিভিন্ন ধরনের কাজের ক্ষেত্রে নানান কারনে নির্যাতনের শিকার হয় প্রতিনিয়ত। শিশু শ্রমিকদের প্রতি সমাজের মানুষের সচেতন হতে হবে এবং শিশু শ্রম বন্ধ করতে সহযোগিতা করতে হবে।

➡️বাংলাদেশের শিশু শ্রমের প্রধান কারণ কি?

বাংলাদেশের শিশু শ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্যতা।পরিবারের ভরনপোষণ মিটাতে এবং অভাবের কারনেই শিশু শ্রমিকদের সৃষ্টি হয়। এতে কিছু অর্থ উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করতে সহযোগিতা হয়।তাই দরিদ্র পরিবারের বাবা মায়েরা তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করান।এছাড়াও বাংলাদেশে শিশু শ্রমের অনেক কারণ রয়েছে। যেমনঃ

 

  • দারিদ্রতা
  • সামাজিক কুপ্রভাব
  • শিক্ষার অভাব
  • সচেতনতার অভাব
  • শারিরীক প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি

➡️শিশু শ্রম কি দারিদ্র্যের সমাধান হতে পারে? 

শিশু শ্রম একটি মারাত্মক সমস্যা। অনেক পরিবার তাদের অভাব দূর করতে ছোট ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন ধরনের কাজে যুক্ত করে দেন ফলে সংসারের অর্থ অভাব কিছুটা হলেও কমে। কিন্তু এর ফলে শিশুদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যায়। শিশু শ্রম কখনোই দারিদ্র্যের সমাধান হতে পারে না কারণ একটি শিশু যদি পড়াশোনা বন্ধ করে কাজকর্ম করে তবে সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা করতে সক্ষম হবে না। তাই শিশু শ্রম আরও দারিদ্র্যতা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। 



➡️শিশু শ্রম রোধে আমাদের করনীয়

বাংলাদেশের শিশু শ্রম বন্ধ করতে হলে সবার আগে দেশের জনগনকে সচেতন হতে হবে। ছোট  ছেলেমেয়েদের কাজে যুক্ত না করে তাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। তাই আমাদের দেশের সরকার প্রতিটি শিশুর জন্য খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যাতে করে অবিভাবকরা এবং শিশুরা পড়াশোনা করতে আগ্রহী হয়। প্রতি মাসে শিশুদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা শিশু শ্রম কিছুটা হলেও দূর করতে পারি।



➡️শিশু শ্রম কি কমাতে পারবে বাংলাদেশ? 

শিশু শ্রম রোধকল্পে বাংলাদেশ বেশ কিছু কর্যক্রম গৃহীত করেছে। ১৬ বছরের নিচের কোন ছেলে বা মেয়ে কোন কারখানা বা ভারি কোন কাজ করতে পারবে না, কায়িক পরিশ্রম করতে পারবে না।দেশের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয় যেন শিশুদের বিভিন্ন কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রেখে তাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়।একটু সচেতনতা আর শিক্ষাই পারে বাংলাদেশ থেকে শিশু শ্রম বন্ধ করতে। 



➡️শিশু শ্রমিকদের ঈদ কেমন হয়?

বাংলাদেশের এক করুন চিত্র হলো শিশু শ্রমিকদের জীবন যাপন।সাধারণত কম বয়সের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন কাজ করে অর্থ উপার্জন করলেই তাদের আমরা শিশু শ্রমিক বলে থাকি।তাদের কোন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নেই। অঙ্কুরেই তা নষ্ট হয়ে যায়। সারাদেশে যখন ঈদের আনন্দে সবাই মেতে থাকে তখন দেখা যায় শিশু শ্রমিকরা রাস্তায়, বাস,ট্রেনে বা বিভিন্ন পার্কে নানা ধরনের জিনিস, খেলনা, খাবার বিক্রি করছে। রাস্তায় পরে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে। শিশু শ্রমিকদের কোন ঈদের আনন্দ নেই। ঐদিনও তারা কাজ করে বেড়ায় পথে পথে। কখনো কখনো ঈদের দিনও শিশুদের দেখা যায় রাস্তা বা পার্কের গেইটে কারও জুতা পালিশ করছে।



➡️রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে শিশু শ্রম 

শিশু শ্রম রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ব্যপক বাধা সৃষ্টি করে। কম বয়সে কাজ করার ফলে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না বিভিন্ন জ্ঞানী মানুষের সাথে মিশতে পারে না ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি করার জন্য কি প্রয়োজন তা সম্পর্কে তারা জানেনা।তাই রাষ্ট্রের উন্নয়ন করার জন্য শিশুদের কাজে লিপ্ত না করে লেখা পড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত। 



➡️শিশু শ্রম কেন ক্ষতিকর ? 

শিশুদের জন্য যে কোন কাজই অত্যন্ত বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ন।অপরিনত বয়সে কাজ করার ফলে শিশুদের মনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন অনুভব করে। শিশুদের শারিরীক দুর্বলতা বেড়ে যায় এবং মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শিশু শ্রমিকরা মালিকের দ্বারা নির্যাতিত হয়।শিশুদের কাজের ফলে তাদের বুদ্ধি বিকাশ সঠিক ভাবে হয় না এবং হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।



➡️শিশুদের অধিকার কি কি ? 

শিশুদের সুন্দর জীবন গঠনের জন্য প্রয়োজন শিশুদের মৌলিক অধিকার গুলো প্রদান করা। শিশুদের অধিকার সমূহের মধ্যে রয়েছেঃ-উপযুক্ত শিক্ষা লাভের অধিকার,  নিরাপদ চিকিৎসার অধিকার, খাদ্য, বস্ত্রের অধিকার, নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার প্রভৃতি। 



➡️শিশু শ্রমকে না বলি

শিশু শ্রম হলো যে কোন কাজের স্থানে মালিকের দ্বারা শোষনের শিকার হওয়া। শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানো যার ফলে শিশুদের মানসিক বুদ্ধি বিকাশে বাধার সৃষ্টি হয়। তাই শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সকলে মিলে শিশু শ্রমকে না বলি। 



➡️শিশু শ্রম কি একটি সমস্যা

শিশু শ্রম বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব জায়গায় একটি ভয়াবহ সমস্যা। শিশু শ্রমিকদের পড়াশোনা না করে কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত হওয়ার ফলে সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়াও কাজের জন্য শিশুরা অনেক সময় তাদের পরিবার থেকে দূরে থাকে ফলে নানা ধরনের অপরাধ প্রবনতায় জড়িয়ে পড়ে। 



➡️শিশু শ্রম কিভাবে শিশুদের প্রভাবিত করে ? 

শিশু শ্রমের ফলে শিশুরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এর ফলে শ্রমজীবী  শিশুরা অন্যান্য সাধারণ শিশুদের মতো সঠিক শিক্ষা পায় না। এর ফলে শিশু তার সমবয়সী অন্য কোন বাচ্চার সাথে খেলতে পারে না,সময় কাটাতে পারে না ফলে মানসিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হয় এতে তাদের বেড়ে উঠতে ও বিকাশ ঘটাতে বাঁধা প্রদান করে। 

  1. মানসিক বিকাশ সাধনে বাধাগ্রস্ত হয়।
  2. শিশুর  স্বাভাবিক শারীরিক গঠন  ব্যহত হয়।
  3. অপরাধ প্রবনতায় জড়িয়ে পরে।


➡️শিশু শ্রম কি অর্থনীতির জন্য খারাপ ? 

শিশু শ্রম বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ নয় বরং একটি শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য খারাপ।

 


➡️শিশু শ্রম নিরসনে জাতীয় পরিকল্পনা 

শিশু শ্রম নিরসনে জাতীয় পরিকল্পনা গৃহীত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ১৮ বছরের নিচে কোন শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক কোন কাজ করানো যাবে না। সপ্তাহে তাদের কর্মঘণ্টা ৪০ ঘন্টার কম করে দেওয়া এবং শিশু তার ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারবে। 


 

➡️শিশু শ্রমের নীতিমালা 

শিশু শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কোন ১৮ বছরের নিচে  শিশু ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে কোন কাজ করতে পারবে না এবং অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না। 



 ➡️বাংলাদেশর শিশুশ্রম আইন

বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকদের পক্ষে বিভিন্ন আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে। ১৯৪১ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শিশুদের জন্য একটি শিশু আইন প্রনয়ণ করেন।এছাড়াও পরবর্তীতে ২০০৬,২০১৩,২০১৮ সালে বিভিন্ন আইনের আওতায় আনেন।

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-952/section-26436.html?lang=bn

 ➡️জাতি গঠনে শিশু শ্রম 

সুন্দর ও সফলময় জাতি গঠনে শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। তাদেরকে উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে। 


উন্নত জাতি গড়তে শিশু শ্রম নয় চাই শিক্ষার আলো।তাই শিশু শ্রম রোধ করি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ি।




No comments

Powered by Blogger.